সারাদেশ
১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস প্রামাণিক
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আব্বাস প্রামাণিকের বয়স ১২৩ বছর বলে দাবি করেছে তার পরিবার। বয়সের ভারে চলাফেরা সীমিত হয়ে এলেও এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মতে, সাদামাটা জীবনযাপন, নিয়মিত ধর্মচর্চা ও সংযমী অভ্যাসই তার দীর্ঘ জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আব্বাস প্রামাণিকের নাতি শফিকুল জানান, তার দাদা অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ। জীবনে কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি। সহজ সরল জীবনযাপন করেই কাটিয়েছেন পুরো জীবন। তবে বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন দৈনন্দিন কাজেও তাকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়।
আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, আব্বাস প্রামাণিকের ছেলেমেয়েরা সবাই আলাদা সংসারে থাকেন। ফলে সবসময় নির্দিষ্ট কেউ তার পাশে থাকতে পারেন না। নাতিরাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার দেখাশোনা করেন।
বেলাল আরও জানান, আব্বাস প্রামাণিক যে ঘরে থাকেন সেটিও বেশ ভাঙাচোরা। এই বয়সে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন হলেও সবসময় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
আব্বাস প্রামাণিকের মেয়ে আলিমা বেগম জানান, তার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখনই তার মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ, পরিশ্রমী ও সংযমী জীবনযাপন করতে দেখেছেন।
আলিমা বলেন, কোথাও যেতে হলে তার বাবা বেশিরভাগ সময় হেঁটেই যেতেন। গাড়িতে ওঠার অভ্যাসও ছিল খুব কম। ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারা পরিবারের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়।
বর্তমানে আব্বাস প্রামাণিক মূলত নাতিদের সঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই মেয়ে আলিমা বাবাকে দেখতে যান এবং তার পছন্দের খাবার নিয়ে যান।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে গেছে। তার যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র আব্বাস প্রামাণিকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাকে সহায়তা করে আসছে।
দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য ঋতু ও সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী আব্বাস প্রামাণিক। বয়স তার শরীরের গতি কমিয়ে দিলেও এখনো চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারা তার পরিবারের কাছে বিশেষ বিস্ময়ের বিষয় হয়ে আছে।