সারাদেশ

নওগাঁয় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৫ জন


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

নওগাঁয় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৫ জন
নওগাঁয় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৫ জন। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। নিজেদের ইচ্ছা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত বুধবার বিকেলে নওগাঁ জেলা আদালতে স্থানীয় আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হলফনামার মাধ্যমে কালেমা পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন তারা।

ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তিরা হলেন, ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সোনাদিঘী এলাকার বাসিন্দা মো. আবু মুছা, তার স্ত্রী মোসা. ফাতেমা বিবি এবং তাদের তিন সন্তান মো. হাসান, মো. হুসাইন ও মোসা. আমেনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় ও জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা। ধীরে ধীরে ইসলামের জীবনদর্শন, আচার-অনুষ্ঠান ও নৈতিকতার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সবাই স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

ধর্ম পরিবর্তনের পর নিয়মিত নামাজ আদায়সহ ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মোসা. ফাতেমা বিবি বলেন, নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও বিশ্বাস থেকেই তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলাম সম্পর্কে জানার পর এ ধর্মের প্রতি তাদের গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। সবকিছু জেনেশুনেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আগামী দিনগুলোতে সমাজের সবার সঙ্গে মিলেমিশে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের ইসলাম গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের নতুন ধর্মীয় জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা সারমিন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। পরিবারটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে।

ধর্ম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ পছন্দের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। ইসলাম গ্রহণকে পরিবারটি নিজেদের জন্য উপযুক্ত মনে করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনি দিক থেকেও এতে কোনো বাধা নেই।