খেলা

মেক্সিকোর বিপক্ষে ‘ভায়াগ্রা’ খেয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা!


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ পিএম

মেক্সিকোর বিপক্ষে ‘ভায়াগ্রা’ খেয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা!
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে ঘিরে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহামদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল ট্যাবলেট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দলটির মেডিকেল টিম।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রথম প্রকাশ পায়, যা পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত কারণে ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এত অধিক উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকায় অক্সিজেনের পরিমাণও সমতল ভূমির চেয়ে বেশ কম থাকে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে যেসব অ্যাথলেটরা খেলতে অভ্যস্ত নন, তারা খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের স্ট্যামিনা বা শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। খেলোয়াড়দের এই ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দূর করতেই ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ও চিকিৎসকরা এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ভায়াগ্রা সাধারণত পুরুষদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি একটি কার্যকর ‘ভাসোডিলেটর’ (রক্তনালি প্রসারক) হিসেবে পরিচিত। এটি শরীরের রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত হতে দেয় না, বরং প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে কম অক্সিজেনের পরিবেশেও ফুসফুস এবং শরীরের পেশিগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় থাকে। মূলত খেলোয়াড়দের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং অধিক উচ্চতাজনিত ক্লান্তি মোকাবেলা করতেই এই ওষুধের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

এই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ডব্লিউএডিএ) ভায়াগ্রাকে তাদের নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় রাখেনি। ওয়াডার দীর্ঘদিনের গবেষণায় দেখা গেছে, সমতল ভূমিতে বা সাধারণ পরিবেশে এটি কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয় না। তবে মেক্সিকো সিটির মতো উচ্চস্থানে এটি শরীরকে পরিস্থিতির সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। ফলে প্রতিযোগিতার আগে বা চলাকালীন সময়ে এটি গ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই।

মেক্সিকোর ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়াম তাদের জন্য এক অপরাজেয় দুর্গ, যেখানে তারা অতীতে খেলা ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে হেরেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই মাঠে তারা এখনো অজেয়। মেক্সিকোর এমন শক্তিশালী রেকর্ড এবং ভৌগোলিক প্রতিকূলতাকে জয় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতেই থ্রি-লাইন্সদের মেডিকেল টিম চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভিনব কৌশলটি বেছে নিয়েছে।