খেলা
জয়ের আনন্দেও চোখে জল রোনালদোর, দিওগো জোটার স্মৃতিতে উৎসর্গ পর্তুগালের জয়
ক্রোয়েশিয়াকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। তবে জয় উদযাপনের মাঝেও আবেগঘন এক মুহূর্তের জন্ম দেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে তিনি ও তার সতীর্থরা প্রয়াত দিওগো জোটাকে স্মরণ করে এই জয় উৎসর্গ করেন।
ম্যাচ শেষে দলীয় ফটোসেশনে রোনালদোর হাতে ছিল জোটার ২১ নম্বর জার্সি। যুক্তরাষ্ট্রে যখন পর্তুগাল জয়ের উল্লাসে মেতেছে, ঠিক তার একদিন পরই ছিল ২০২৫ সালের ৩ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ছবি তোলার পর রোনালদো জার্সিটি নিজের গায়ে তুলে নেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে প্রয়াত সতীর্থকে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর দর্শকদের অভিবাদন জানাতে মাঠ প্রদক্ষিণের সময় নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগাল অধিনায়ক। চোখের জলেই প্রকাশ পেয়েছে তার প্রিয় সতীর্থকে হারানোর বেদনা।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি খুবই আবেগাপ্লুত ছিলাম। কারণ আজকের দিনটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রায় ঠিক এক বছর আগে এই দিনেই আমরা দিওগো জোটাকে হারিয়েছিলাম।’
পর্তুগালের স্পোর্ট টিভিকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, সে এখনো আমাদের সঙ্গেই আছে। তাকে সম্মান জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল এই ম্যাচে জয় পাওয়া।’
জয়সূচক গোল করা গনসালো রামোসও স্মরণ করেন প্রয়াত সতীর্থকে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা তাকে স্মরণ করি। দিওগো আমাদের শক্তি জোগায়। আজকের জয় এবং টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছানো তাই আমাদের জন্য আরও বিশেষ।’
পর্তুগাল ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিয়াও বলেন, ‘সব আবেগের মাঝেও আমরা শুরু থেকেই বিশ্বাস রেখেছিলাম। আর আমাদের মনে হয়েছে, দিওগো সবসময় আমাদের সঙ্গে আছে এবং আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই ভাই আন্দ্রেকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই ল্যাম্বরগিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন দিওগো জোটা। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে স্পেনের জামোরা প্রদেশের সানাব্রিয়া এলাকার এ–৫২ মহাসড়কে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাইরে ছিটকে পড়ে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় জোটা ও তার ভাই দুজনই নিহত হন।
এক বছর পরও জোটার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে পর্তুগাল দল। আর তাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়টি শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই নয়, বরং প্রিয় সতীর্থের প্রতি এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলিও হয়ে রইল।