বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি
বিশুদ্ধ পানির সংকটে আশার আলো, বাতাস থেকেই তৈরি হবে খাবার পানি
বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। জাতিসংঘের হিসাবে, পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ২২০ কোটির বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে দিন কাটায়। এমন বাস্তবতায় বাতাস থেকেই খাবার পানি তৈরি করতে সক্ষম এক যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন জার্মানির দুই তরুণী—লুইসা গ্রাউপে ও জুলিকা শোয়ার্জ।
‘ওয়াটার ফ্রম এয়ার’ নামে এই যন্ত্রটি সম্পূর্ণ থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি কাজ করতে বিদ্যুতেরও প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে দিনে প্রায় ছয় লিটার বিশুদ্ধ পানি তৈরি করতে পারে যন্ত্রটি।
ডিভাইসটির পুরো কাঠামো একাধিক থ্রিডি প্রিন্টেড স্তর দিয়ে তৈরি। বাতাস থেকে পানির অণু সংগ্রহের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ উপাদান ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ (MOF)। এই উপাদান বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তা ঘনীভূত করে তরল পানিতে পরিণত করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে কোনো ধরনের ফিল্টার বা বাইরের শক্তির উৎসের প্রয়োজন নেই।

ডিভাইসের নিচের দিকে রয়েছে একটি ছোট কল। সেখান থেকে উৎপন্ন পানি সংগ্রহ করা যায় একেবারে সহজে। পুরো একটি চক্র সম্পন্ন হতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর এতে তৈরি হয় প্রায় আধা লিটার বিশুদ্ধ পানি। তবে যন্ত্রটি একটানা চালু থাকলে দিনে ছয় লিটার পর্যন্ত পানি তৈরি সম্ভব, যা একটি ছোট পরিবারের দৈনিক চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
উদ্ভাবকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি বিশেষ করে পানির সংকটে ভোগা বা শুষ্ক আবহাওয়ায় বসবাসরত অঞ্চলের জন্য হতে পারে এক যুগান্তকারী সমাধান। বিদ্যুৎ ছাড়াই চলায় এটি দুর্যোগপূর্ব বা পরবর্তী পরিস্থিতিতেও জরুরি সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যন্ত্রটির ওজন ও আকারও বেশ হালকা এবং কমপ্যাক্ট, ফলে সহজেই বহনযোগ্য।
যদিও ‘ওয়াটার ফ্রম এয়ার’ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর পেটেন্ট প্রক্রিয়াধীন, তবে পরিবেশবিষয়ক প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এটিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি বিশুদ্ধ পানির সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমানে প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য আরও গবেষণা চলছে। এখন দেখার বিষয়, এটি কবে নাগাদ বাজারে আসে এবং কতটা সাশ্রয়ী হয় বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য।