বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

ডিপফেইক বিতর্কের পর ইন্দোনেশিয়ায় কঠোর শর্তে পুনরায় চালু গ্রক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

ডিপফেইক বিতর্কের পর ইন্দোনেশিয়ায় কঠোর শর্তে পুনরায় চালু গ্রক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞার পর অবশেষে ইন্দোনেশিয়ায় পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছে ধনকুবের ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’। আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক ডিপফেইক ছবি তৈরির অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার পর কঠোর নজরদারি ও একাধিক শর্ত মেনে দেশটিতে আবার কার্যক্রম শুরু করতে পারছে চ্যাটবটটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছে, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লাখ লাখ যৌন উত্তেজক ডিপফেইক ছবি তৈরির অভিযোগ ওঠে গ্রকের বিরুদ্ধে। এসব ছবির মধ্যে হাজার হাজার শিশু-কিশোরের ছবি থাকার অভিযোগও ছিল। এ ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ গ্রকসহ সংশ্লিষ্ট পরিষেবাটি নিষিদ্ধ করে।

ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-কে তাদের এআই চ্যাটবট গ্রক পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এক চিঠির মাধ্যমে এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রকের অপব্যবহার ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মটিতে একাধিক নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

দেশটির ‘ডিজিটাল স্পেস সুপারভিশন’ বিভাগের মহাপরিচালক আলেকজান্ডার সাবার এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন যুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কার্যকর কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যদি গ্রক আবারও কোনো অবৈধ তথ্য ছড়াতে বা শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করতে দেখা যায়, তাহলে প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় নিষিদ্ধ করা হবে।

চলতি বছরের শুরুতেই এ বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ব্যবহারকারীদের অনুরোধে গ্রক নারী ও শিশুদের সম্মতি ছাড়াই তাদের আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি তৈরি করছিল। এর জেরে ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সেও গ্রক নিষিদ্ধ করা হয়।

পরে একই মাসে ফিলিপিন্স প্রথমে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে মালয়েশিয়াও গ্রকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছিল, গ্রকের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে এবং পুনরায় একই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে গ্রককে ঘিরে উদ্বেগ শুধু এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। একই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এবং যুক্তরাজ্যের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাও গ্রকের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।