সারাবিশ্ব
ট্রাম্পের ছেলের সাবেক বাগদত্তা রাষ্ট্রদূত গিলফয়েলকে পদত্যাগের নির্দেশ
গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চাওয়া, দামি উপহার গ্রহণ এবং একটি গ্রিক নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গিলফয়েলের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও কংগ্রেসের তদারকির দাবি উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রদূত গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছি।’ একই সঙ্গে তিনি গিলফয়েলের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং তাকে দলের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে গিলফয়েলের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তার আইনজীবীদের দাবি, অর্থ চাওয়ার ঘটনাটি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং আগে সম্পন্ন করা বক্তৃতা ও পরামর্শকাজের পারিশ্রমিক পাওনা ছিল। তারা আরও দাবি করেছেন, গিলফয়েল সরকারি উপহার গ্রহণ ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান মেনেছেন।
অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো, রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটে তার নিয়োগ অনুমোদনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি অর্থ চেয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক এক দাতা এরিক ডিটার্সের দাবি, সিনেটে গিলফয়েলের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি তাকে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে এক লাখ ডলার দেওয়ার অনুরোধ করেন। ডিটার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ দিয়ে একটি আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন গিলফয়েল।
ডিটার্স আরও দাবি করেন, অর্থ দিতে রাজি করানোর জন্য গিলফয়েল তাকে ট্রাম্প প্রশাসনে নিজের ‘সুখে-দুঃখে পাশে থাকা বিশ্বস্ত সহযোগী’ হিসেবে থাকার সুযোগের কথা বলেছিলেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের সাংবাদিক জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিটার্স বলেন, অর্থ চাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সম্পর্ক ছিল বলে তিনি মনে করেন।
তবে ডিটার্স গিলফয়েলকে ওই অর্থ দেননি বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, সে সময় তার হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ কিংবা সহজে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ ছিল না।
অন্যদিকে, গিলফয়েলের আইনজীবীরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেন, গিলফয়েলের হয়ে আগে সম্পন্ন করা বক্তৃতা ও পরামর্শকাজের জন্য ডিটার্সের কাছে অর্থ পাওনা ছিল। সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির সময় তিনি কেবল বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
আইনজীবীদের ভাষ্য, সম্পন্ন কাজের পারিশ্রমিক চাওয়া দুর্নীতি নয়। তাদের মতে, ডিটার্সের বক্তব্যে ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। অর্থ চাওয়ার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
দামি উপহার গ্রহণ ও লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নেওয়ার অভিযোগ
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে শুধু অর্থ চাওয়ার অভিযোগই নয়, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, গ্রিসের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা এক লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্মাণপ্রতিষ্ঠানকে আঞ্চলিক জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি পেতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
গিলফয়েলের আইনজীবীরা তার ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি বিধি অনুযায়ী উপহার গ্রহণ ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে গিলফয়েল নিয়ম মেনেছেন। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ গিলফয়েল
কিম্বারলি গিলফয়েল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে চার বছর বাগদানসূত্রে আবদ্ধ ছিলেন। পরে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর তাকে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গিলফয়েল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখ। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হোয়াইট হাউসের পদত্যাগের নির্দেশ তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ট্রাম্প গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি-হ্যাঁ। আমরা সন্তুষ্ট নই।’ এর এক দিন পরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার ঘোষণা আসে।
গিলফয়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মার্কো রুবিও
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিস সফরে ছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও তিনি সরাসরি অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
তবে এথেন্স সফরের সময় একাধিক অনুষ্ঠানে গিলফয়েলের সঙ্গে অংশ নেন রুবিও। একপর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে গিলফয়েলের প্রশংসা করেন এবং তাকে ‘এখানে একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, কোনো একটি সূত্র তথ্য দিলেই সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। তার বক্তব্য ছিল, শুধু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেই কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর রুবিওর এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসের পদত্যাগের নির্দেশ প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তদন্তের দাবি ডেমোক্র্যাটদের
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য গ্রেগরি মিকস গিলফয়েলকে কমিটির সামনে হাজির করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি জানতে চেয়েছেন, গিলফয়েল অন্য কোনো ব্যক্তি বা উৎস থেকেও অর্থ চেয়েছিলেন কি না। তার মতে, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার পদত্যাগের নির্দেশের ঘোষণা আসার পর প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জানান, পদত্যাগ করলেই গিলফয়েল জবাবদিহি থেকে মুক্তি পাবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, কীভাবে এমন অভিযোগের পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা বোঝার জন্য কংগ্রেসের তদারকি অব্যাহত রাখা জরুরি। ফলে পদত্যাগের নির্দেশের পরও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক চলতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিদর্শক দপ্তরের তদন্ত
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় (ওআইজি) তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র।
তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, নীতিগত কারণে তারা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেন না এবং এ নিয়ে মন্তব্যও করেন না।
গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার পর তদন্তের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগগুলো নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করে কি না, তার ওপর পররাষ্ট্র দপ্তরের তদন্তের গতিপথ নির্ভর করতে পারে।
বিচার বিভাগ আলাদা তদন্ত শুরু না করলে পররাষ্ট্র দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশে প্রায় এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে গেলেও গিলফয়েলকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে তদন্তের পরিণতি কী হবে কিংবা তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
পদত্যাগেই কি শেষ হবে বিতর্ক?
গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
একদিকে, গিলফয়েলের আইনজীবীরা বলছেন, তিনি আগে সম্পন্ন করা কাজের পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ডিটার্সের দাবি, অর্থ দেওয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্ত ছিল। এই দুই বিপরীত বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই সঙ্গে কংগ্রেসের তদারকি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের তদন্ত সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জবাবদিহি কতটা কার্যকর, তা নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে সম্ভাব্য তদন্ত ও কংগ্রেসের নজরদারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। পদত্যাগের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক চাপ কমতে পারে, কিন্তু অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।