সারাবিশ্ব
হুতিদের অগ্রযাত্রায় নতুন অবরোধের শঙ্কা, প্রাণভয়ে তাইজ ছাড়ছেন বাসিন্দারা
ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজে হুতি বিদ্রোহীদের নতুন করে অগ্রযাত্রা এবং যোগাযোগপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও অবরোধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ফিরে আসার আশঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়ে শহর ছাড়ছেন অনেক বাসিন্দা। খাদ্য, জ্বালানি, রান্নার গ্যাস ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের পাশাপাশি গোলাবর্ষণের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় শহরটির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে তাইজ ছেড়ে পালিয়েছেন উইআম আব্দুল্লাহ। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে দীর্ঘদিন হুতিদের অবরোধের মধ্যে কাটাতে হয়েছিল তাদের। পুরোনো সেই দুর্ভোগ আবার ফিরে আসতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরিবার শহর ছাড়ার পর গত ৪ অক্টোবর হুতিরা তাইজের প্রবেশপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে শহরটিতে পণ্য ও রসদ সরবরাহের পথ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) উইআম আব্দুল্লাহ বলেন, শহরের পরিস্থিতি আগে থেকেই হতাশাজনক ছিল। সাধারণ মানুষ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও যেন তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নতুন করে অবরোধের আশঙ্কায় তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
খাদ্য ও জ্বালানির সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ
দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের পাহাড়ঘেরা শহর তাইজে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। শহরটির চারপাশে সংঘাত তীব্র হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। ভবিষ্যতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই কেনাকাটা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শহরে ডিজেল, অন্যান্য জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের সংকট ইতোমধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা সিভিক সেন্টার ফর অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড সাপোর্টের শিশু সুরক্ষাবিষয়ক পরামর্শক শাইফ আল-গাবিরে জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার জন্য কাঠ ও কার্টন সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খাদ্য ও পানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শাইফ আল-গাবিরে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শহরের মজুত খাদ্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে শিশু, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
গোলাবর্ষণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দারা
তাইজ শহরের চারপাশের পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। শহরের ভেতর থেকেও গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিছু রকেট ও আর্টিলারি শেল শহরের অভ্যন্তরে এসে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে বহু বছর আগে অবরোধের সময়কার ভয়াবহ স্মৃতি আবারও ফিরে আসছে।
বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অনেকে পরিবার নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঐতিহাসিক ও কৌশলগত দিক থেকে তাইজ ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত শহরটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধে অংশ নেয়। সংঘাতের কারণে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল রয়েছে।
তাইজের ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। শহরটি একসময় বিভিন্ন ইসলামী রাজবংশের রাজধানী ছিল এবং ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা আটশ বছরেরও বেশি পুরোনো আল-কাহিরা দুর্গ। এর দক্ষিণে রয়েছে তিন হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতার মাউন্ট সাবির পর্বতমালা। পাহাড়ি এলাকার উর্বর কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যের জোগান দিয়ে এসেছে।
পুরোনো অবরোধের ভয়াবহ স্মৃতি
২০১৫ সালের পর কয়েক বছর ধরে হুতি বাহিনী তাইজের বেশির ভাগ প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সে সময় প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য শহরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত গোলাবর্ষণ, বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্যাভাব ও অপুষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণের বন্দরনগরী এডেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাসিন্দাদের দুর্গম পাহাড়ি পথ ব্যবহার করতে হতো। এসব পথে পণ্য পরিবহন কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে উইআম আব্দুল্লাহ বলেন, অবরুদ্ধ তাইজে জীবন ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। গোলাবর্ষণে প্রাণ না গেলেও খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। রাত নামলে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে যেত এবং পুরো শহরে আতঙ্ক বিরাজ করত।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে। তাইজেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া কিছু মানুষ ফিরে আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে পণ্যের উচ্চমূল্য ও অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটতে দেয়নি।
এ সময়ও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল শহরের উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকের বিভিন্ন এলাকা। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাধা ও অতিরিক্ত খরচের কারণে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেশি ছিল বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
যোগাযোগপথ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে হুতিদের নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু হওয়ার পর তাইজের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান দখলের খবর সামনে আসে। এরপর তাইজের আশপাশে তাদের অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
উইআম আব্দুল্লাহ জানান, নতুন করে অবরোধের আশঙ্কা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের কারণে তারা শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তার ছোট সন্তানরা ভয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে খেলতেও পারছিল না। পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, শহরে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। এমনকি পানির পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছিল না।
তাইজ ছেড়ে যাওয়ার সময় তারা সরকারি বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের শহরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখেন। চারপাশে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যাচ্ছিল। পরিবারটি শহরের দক্ষিণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের তুরবাহ হয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন লাহজ প্রদেশে পৌঁছায়। তবে তাদের চলে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই হুতিরা তুরবাহও দখল করে নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে তাইজ ও আশপাশের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রধান সড়ক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আগে ব্যবহৃত বিকল্প পাহাড়ি পথগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
তাইজে অবস্থিত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পরিচালক আবদেলরহমান আল-কালিয়া এপিকে বলেন, যোগাযোগপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া ঠেকাতে তিনি বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কিনে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাতের মধ্যে শিশু ও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি
তাইজের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বাহিনী হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আশপাশের গ্রামগুলোতেও। গোলাবর্ষণের কারণে বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
পাহাড়ি এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ আবদেল-জাবের জানান, তাদের বাড়ির কাছে একটি গোলা এসে পড়লে তার সাত বছর বয়সী নাতনি পেটে গোলার স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তাইজের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর তিনি পরিবারের নয় সদস্যকে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরের একটি গ্রামে আশ্রয় নেন।
আহমেদ আবদেল-জাবের বলেন, নতুন আশ্রয়স্থলও নিরাপদ মনে না হলে তারা সেখান থেকে অন্য কোনো এলাকায় চলে যাবেন। তার এই বক্তব্য সংঘাতের মধ্যে সাধারণ পরিবারগুলোর অনিশ্চিত জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরে।
হাসপাতালগুলোতেও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহত সেনাসদস্য, নারী ও শিশুদের তাইজের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তাইজ প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের চিকিৎসক ফাহাদ নাজারি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সময় হাসপাতালগুলোর ডিজেল শেষ হয়ে যেতে পারে। নতুন করে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ সরবরাহ করাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শহরে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শিশু সুরক্ষাবিষয়ক পরামর্শক শাইফ আল-গাবিরে শহরের নিরাপত্তাহীনতা তুলে ধরে বলেন, তিনি একটি ক্যাফেতে বসে থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে গোলা বা বিস্ফোরক এসে পড়ার আশঙ্কা করছেন। এতে শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও সাধারণ মানুষের জীবন মুহূর্তেই বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, তাইজে নতুন করে সংঘাত ও অবরোধের আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। যোগাযোগপথ বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি শিশু, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।