বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

পৃথিবীর দিকে আসছে বিধ্বংসী গ্রহাণু, পারমাণবিক বোমা দিয়ে করা হবে ধ্বংস!


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

পৃথিবীর দিকে আসছে বিধ্বংসী গ্রহাণু, পারমাণবিক বোমা দিয়ে করা হবে ধ্বংস!
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা অনেক বড় গ্রহাণু এখনো সম্পূর্ণভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সম্ভাব্য সংঘর্ষের বিষয়ে আগাম সতর্কতা অনেক সময় খুব দেরিতে পাওয়া যায় কখনো মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট বা মাঝারি আকারের গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হলেও বড় আকারের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে তা কার্যকর নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরীক্ষামূলক ডার্ট মিশন এ ক্ষেত্রে কিছু সফলতা দেখালেও, কয়েক শ মিটার ব্যাসের বিশাল গ্রহাণুর গতিপথ অল্প সময়ে বদলানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এ অবস্থায় চীনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, বড় গ্রহাণুকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করতে পারমাণবিক বিস্ফোরণই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। ‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় তারা এ দাবি করেছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে যখন কোনো বড় গ্রহাণু খুব অল্প সময়ের সতর্কবার্তায় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তখন সেটিকে প্রতিহত করার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান।

নতুন এই গবেষণায় গ্রহাণু ধ্বংসের একটি পদ্ধতির রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে একটি মহাকাশযান প্রথমে বিশেষ ভেদকারী যন্ত্র দিয়ে গ্রহাণুর ভেতরে গর্ত তৈরি করবে। এরপর সেই গর্তের ভেতরে পারমাণবিক বিস্ফোরক স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।

বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মাত্রার বিস্ফোরণ এবং ভিন্ন ভিন্ন গভীরতায় বোমা স্থাপনের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, গ্রহাণুর ভেতরে নির্দিষ্ট গভীরতায় বিস্ফোরণ ঘটালে এর গতিপথ দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা সম্ভব। এছাড়া, গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে, তা উপরিভাগে বিস্ফোরণের তুলনায় তিন গুণ বেশি কার্যকরভাবে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বড় গ্রহাণু মোকাবিলায় এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কম সময়ের সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিস্ফোরণই হতে পারে শেষ ভরসা।