পর্যটন
ঈদের ছুটিতে ১০৭ পর্যটন কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার ঈদের ছুটির সাত দিনে দেশের ৩৩ জেলার ১০৭টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেট, পার্বত্য এলাকা ও হাওড়াঞ্চলসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভিড় জমায়। যদিও এবার জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও এসব পর্যটন কেন্দ্রে ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে মনে করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
পর্যটন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখা, মোবাইল টিম মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সারাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে মোট ১ হাজার ৬৭৫টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বেশি জনসমাগম হয় এমন ১০৭টি পর্যটন স্পটে প্রায় দেড় হাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন রিজিয়ন অফিসে প্রায় ২০টি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে পর্যটন এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার ও হেল্পডেস্ক স্থাপন, সৈকত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, পর্যটকদের তথ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পানিতে গোসলের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ঘোষণা প্রচারের ব্যবস্থা করা।
এছাড়া পর্যটন এলাকায় দিন-রাত পুলিশি টহল জোরদার, সিসিটিভি মনিটরিং বৃদ্ধি, হকার বা অসাধু চক্রের উৎপাত প্রতিরোধ এবং হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।