অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে

১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৭ পিএম | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১১ এএম


অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে

আমি মনে করি যে, ২০২৩ একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একটি অনিশ্চয়তা আমাদের রয়েই গিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ করে আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করবে। একটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, অন্যটি হলো আমাদের রপ্তানি আয়ের যে বাজার সেক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি আছে। সেখানে চাহিদার একটি সংকোচনের আশঙ্কা আছে।

আমাদের মূল বাজারগুলোতে একটি অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো যে, আমাদের রিজার্ভের উপরে একটি প্রেসার আছে। সেটি আমাদের আমদানি কিছুটা সংকোচিত করতে বাধ্য করছে যেটি আমাদের বিনিয়োগের উপরেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আমি বলব— অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কিছু ফান্ডামেন্টাল ইস্যু যেগুলো এখনো শক্তিশালী আছে। সেজন্য আমাদের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের অধিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক বাজার প্রশমন করার জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারের যে চাহিদা সেটির উপরে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপরে নির্ভর করে। সেখানে যেন আমাদের উৎপাদনের ঘাটতি না হয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ইত্যাদির যেন সমস্যা না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক ঋণের প্রাপ্যতা যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মান, সেটি বৃদ্ধি করতে হবে।

এ সব জায়গাগুলো আমরা যদি সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে আমাদের ঝুঁকিগুলো কমবে। যে ঝুঁকিগুলোর অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক বাজার প্রসূত। কিন্তু আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনা ও উৎকর্ষতার মানবৃদ্ধির মাধ্যমে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ব্যাংক ঋণ যেগুলো, সেখানে ঋণ খেলাপি যাতে না বাড়ে। যেগুলো খেলাপি হয়েছে সেগুলো যাতে নজরদারি খবরদারির মাধ্যমে আদায় করতে সচেষ্ট হই। আমাদের যে বিনিয়োগ হয়েছে, সেগুলো যাতে সময়মত সুশাসনের মাধ্যমে সঠিক ও সাশ্রয়ীভাবে করতে পারি। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করে, স্বল্পআয়ের মানুষ যারা আছেন, তাদের সামাজিক সুরক্ষাদান করে সেগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সেটি করতে গেলে আমাদের সম্পদ লাগবে। সেটি আহরণ করতে গেলে আমাদের কর ব্যবস্থাপনা, আমাদের রাজস্ব আদায় ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। সুতরাং সেই কাজগুলো করতে পারলে আমরা অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত থাকতে পারব বলে আমি মনে করি।

অর্থাৎ আমরা যেন রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে। সুশাসনের মধ্যে নিয়ে এসে আমাদের অনাহুত ব্যয় হ্রাস করতে হবে। আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। এগুলোর দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। যাতে কম আয়ের মানুষদের সমস্যা না হয়। সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। এই জায়গাগুলোতে সামস্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা, মূদ্রা ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এই তিনটি ক্ষেত্রেই খুব ভালোভাবে আমাদের নজর দিতে হবে। অর্থাৎ ঝুঁকিগুলো যেন বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসতে না পারে এবং ঝুঁকিগুলো সামাল দিয়েই ২০২৩ এর মধ্যে আমরা যেন অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে আসতে পারি সেদিকে আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: অধ্যাপক এবং সম্মানীয় ফেলো (সিপিডি)

আরএ/