ক্যাম্পাস
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি হিসেবে যোগ দিলেন ড. এম আর কবির
দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এম আর কবির ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ দায়িত্বে যোগ দেন। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি তার নিয়োগ অনুমোদন করে।
এর আগে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে (৩০ জুন ২০২৫) তাকে চার বছরের জন্য ডিআইইউ-এর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও গবেষণার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. এম আর কবির ২০২১ সাল থেকে ডিআইইউ-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি টানা চার মেয়াদে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসা ড. কবির বুয়েটের পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বুয়েট সিন্ডিকেট, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএফএম)-এর বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ড. কবিরের রয়েছে প্রশংসনীয় কর্মযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং নেদারল্যান্ডসের টিইউ ডেলফ্ট-এ তিনি আন্তর্জাতিক স্কলার ও ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ভারতের রুরকি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে আইআইটি রুরকি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক, বুয়েট থেকে পানি সম্পদ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর এবং ইউনেস্কো ফেলোশিপে ভারতের আন্না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানিবিদ্যায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব লুভেন (KU Leuven) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
গবেষণায়ও রয়েছে তার বিশাল অবদান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৪৯টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বহু গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং বহু এমএসসি ও পিএইচডি গবেষককে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ড. এম আর কবির তিন দফায় এশিয়া-প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (AUAP) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে ইউজিসির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (IQAC) চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন।
তাঁর শিক্ষাগত নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে “Quality Leadership Award” এবং ২০১২ সালে “Inspirational Leadership Award” অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী ফারহানা হোসেন, এক পুত্র ও একটি নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন।