ক্যাম্পাস

ঢাবিতে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির ভিডিও প্রজেক্টরে দেখালো ডাকসু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

ঢাবিতে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির ভিডিও প্রজেক্টরে দেখালো ডাকসু
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকানগুলোতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ এবার সরাসরি তথ্য-প্রমাণসহ জনসমক্ষে আনা হয়েছে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রজেক্টরের মাধ্যমে অডিও-ভিডিওসহ এসব প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করে।

ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, কীভাবে ক্যাম্পাসের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, "আমরা কোনো বিশেষ শক্তির পতন চাই না, আমরা সংশোধন চাই। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আমাদের স্বপ্ন ছিল ক্যাম্পাসগুলোতে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দখলদারিত্ব থাকবে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে কিছু নেতাকর্মী সেই পুরনো পথেই হাঁটছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান এসব দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের দল থেকে ছাঁটাই করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেতা সর্বমিত্র চাকমা সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার নাম উল্লেখ করেন। অভিযুক্তরা হলেন: সাইয়েদ হাসান সাদ: বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)। আবিদ আব্দুল্লাহ: সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। (তিনি ২০২৫-এর ডাকসু নির্বাচনে 'স্বতন্ত্র ঐক্য জোট' প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন)। রাতুল: চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)। কাওসার মাহমুদ: ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)। সানি সরকার: রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ)।

সর্বমিত্র চাকমা জানান, দোকানটি যখন ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন থেকে দৈনিক ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রুবেল নামে এক দোকানদারের বরাত দিয়ে আবিদ আব্দুল্লাহ ও সাদকে উদ্দেশ্য করে ইমরান কিছু তথ্য জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই আক্রোশ বশত রুবেলের দোকান ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জব্দকৃত অডিও ক্লিপে দোকান মালিক ও ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।