ক্যাম্পাস

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর ‘আত্মহত্যা’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর ‘আত্মহত্যা’
অনন্য গাঙ্গুলী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর অকাল মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজারপাড়াস্থ নিজ বাসায় তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, অনন্য গাঙ্গুলী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, ওই মানসিক যন্ত্রণার প্রভাবেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষাজীবনে অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি-তিন পরীক্ষাতেই তিনি বৃত্তি অর্জন করেন। তবে কলেজজীবনে মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা থেকে বিরতি নেন। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম স্থান অর্জন করে সবার নজর কাড়েন। সে বছর তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫ (মূল পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৯৫)।

ঝিনাইদহের সরকারি কে এম এইচ কলেজের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী অনন্যর এই সাফল্যের গল্প সে সময় গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।

অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্যের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার এক ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অনন্য মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার, ওসিডি ও অ্যাংজাইটিতে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এক সময় ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। দেশে ফেরার পর নিয়মিত কাউন্সেলিং চললেও ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর তার পড়াশোনা বন্ধ ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীরভাবে শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোটচাঁদপুরসহ দেশের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি।