ক্যাম্পাস

রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি বয়ফ্রেন্ডকে পাঠানোর অভিযোগ ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি বয়ফ্রেন্ডকে পাঠানোর অভিযোগ ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হলজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
 
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অজান্তে ‘আবিদ’ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি কয়েকটি ছবি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছেই পাঠিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
 
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
 
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘আবিদ’ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেই সময় বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি সেসব ছবি ও ভিডিওর কিছু অংশ হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।”
 
জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হাউজ টিউটরদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি। দ্রুত বিস্তারিত জানানো হবে।”
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান জানান, রাতেই তিনি বিষয়টি জানতে পেরে হল প্রশাসন ও উপাচার্যকে অবহিত করেছেন। উপাচার্য ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে।”
 
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাত থেকেই জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।