ক্যাম্পাস
ওয়াশরুম নিয়ে ছাত্রদল নেতাকে পিটুনি, হল ছাড়তে হলো ঢাবির শিবির-সমর্থককে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে তার বরাদ্দকৃত আবাসিক সিটও বাতিল করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ ডাকসু নির্বাচনের সময় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের কর্মী হিসেবে পরিচিতি পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির জানিয়েছে, তার সঙ্গে সংগঠনটির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
বিজয় একাত্তর হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক নোটিশে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষ-সংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মাহফুজের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পেয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার এবং তার আবাসিক সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় হল প্রশাসন।
জানা যায়, গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। নীড় টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মাহফুজ তাকে মারধর করেন এবং নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে মাহফুজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় হল প্রশাসন।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনের সময় আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েমের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ কারণে তাকে শিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসেন আল মারুফ বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করছি, মাহফুজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে তিনি ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে সমর্থন করেছিলেন। যেমন ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেওয়া ১৪ হাজার ৪২ জন শিক্ষার্থী সাদিক কায়েমকে সমর্থন দিয়ে ভিপি নির্বাচিত করেছেন।’