রাজধানী

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারাল আরফা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারাল আরফা
ছবি: সংগৃহীত

জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল আরিফিন ইসলাম আরফা। এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারিয়েছে নয় বছরের এই শিশু। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার বাবা তাজুল ইসলাম। কয়েক বছরের ব্যবধানে মা-বাবা দুজনকেই হারিয়ে বর্তমানে অনেকটা অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটছে আরফার। রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় ঘটেছে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম ও মারুফা আক্তার দুজনেই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পরপরই মারুফা আক্তারের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে নড়াইল থেকে যশোরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

মা হারানোর পর দাদি সখিনা বেগম ও বড় চাচা শফিকুল ইসলামের কাছে রামপুরার ভাড়া বাসায় বড় হতে থাকে আরফা। মেয়েকে মায়ের অভাব বুঝতে দেননি বাবা তাজুল ইসলাম। মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের ডিলারের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের সব চাহিদা পূরণ করতেন এবং পরম যত্নে বড় করছিলেন তাকে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাজুল ইসলাম এর আগে যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়ার মতো গুরুতর রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান তিনি। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ। কোনো সঞ্চয় না থাকায় এবং দেনা থাকায় আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তার দাদি ও চাচারা।

বর্তমানে রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে আরফা। মুঠোফোনে মা-বাবার পুরোনো ছবি দেখে এবং প্রিয় বিড়াল ‘ভুতুম’কে সঙ্গে নিয়ে সময় কাটছে তার। ছোট্ট আরফা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেও সুস্থ হয়ে ফিরে আসার কথা মেয়েকে জানিয়েছিলেন তাজুল ইসলাম। বাবার সেই কথা ও স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে আরফার। এমন কঠিন সময়ে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পাশে দাঁড়ালে আরফার ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিরাপদ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তার স্বজনরা।