কর্পোরেট
দুর্নীতিসহ গুরুতর অনিয়মে বন্ধ থাকা এস আলমের প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি
বিটিআরসি এবার বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি)কে আবার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর নানা অনিয়ম, বকেয়া পরিশোধ না করা এবং আর্থিক দুর্নীতিসহ গুরুতর কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ফার্স্ট কম বিডির আইওএস (আইজিডব্লিউ অপারেটস ফোরাম) অপারেটরদের কাছে তখন প্রায় দুই লাখ ২২ হাজার ৫৭২ মার্কিন ডলারের বকেয়া ছিল। এছাড়া বিটিআরসির কাছে লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়া ছিল। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিটিআরসি বকেয়ার অর্ধেক পরিশোধের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত ‘অপারেশনাল ক্যাপ’ তুলে নেয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিটিআরসির এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য নিয়ম মেনে চলা সংস্থাগুলোর জন্য নেতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
ফাস্ট কম বিডি বকেয়া পরিশোধের জন্য বিভিন্ন কিস্তিতে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আইওএস অপারেটররা এই প্রস্তাবে অসম্মতি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, আগেও দায়িত্ব অর্ধেক রেখে প্রতিষ্ঠানটি সরে গিয়েছিল, এবং পুনরায় একই ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে। এই সম্পদের মাধ্যমে ফাস্ট কম বিডির ৫৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রিত। খাতসংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, সম্পদ জব্দের অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত।
বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত টেলিযোগাযোগ খাতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। খাতের বিভিন্ন সংস্থা মনে করছেন, বিটিআরসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং পুরো খাতের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে।