অর্থনীতি

প্রথমবারের মতো নিলামে ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম

প্রথমবারের মতো নিলামে ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (১৩ জুলাই) ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডলারগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাজারে ডলারের দর নিয়ন্ত্রণ এবং কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, “সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) ও রপ্তানিকারকদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনেছে, যাতে তাদের ক্ষতি না হয়।”

এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত দরে ডলার কিনলেও এবারই প্রথম তা নিলামের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হলো। ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত দর ছিল ১২০ টাকার আশপাশে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপেক্ষাকৃত বেশি দরে—১২১ টাকা ৫০ পয়সায়—ডলার কেনে, যা বাজারে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “নিলামে ডলার বিক্রির জন্য ব্যাংকগুলো কম দর প্রস্তাব করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দাম দিয়েছে, যাতে বাজারে ডলারের দর কিছুটা স্থিতিশীল এবং ইতিবাচক থাকে।”

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দর দ্রুত কমছিল, এতে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল। আমদানিকারকরা এতে লাভবান হলেও রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা ক্ষতির মুখে পড়তেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয় হুন্ডির দিকে ঝুঁকে পড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বাজারে ডলারের দর ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ছিল ১২০ টাকা ৬০ পয়সা, যা ১০ জুলাইয়ের ১২১ টাকা ৮৫ পয়সার তুলনায় কম।

এর আগে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মে থেকে ডলারের বিনিময় মূল্য বাজারভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বাস্তবে ডলারের দর বাড়েনি, বরং কিছুটা কমে যায়। ব্যাংকারদের ভাষ্য, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে, মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় চাহিদাও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।

এছাড়া জুন মাসে আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর অর্থ ছাড় পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার জমা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা মনে করছেন, ডলারের দর সুষম রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ডলার বাজারে আরও ভারসাম্য আসবে বলে মনে করছেন তারা।