অর্থনীতি

ডিসেম্বরের মধ্যেই পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতের নির্দেশ দিলেন গভর্নর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫০ পিএম

ডিসেম্বরের মধ্যেই পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতের নির্দেশ দিলেন গভর্নর
ছবি: সংগৃহীত

রেজল্যুশনের আওতায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বুধবার গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে গভর্নর স্পষ্টভাবে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমানতকারীদের অর্থ নিশ্চিতভাবে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বিআরডি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ও কর্মকর্তারা এবং রেজল্যুশনের আওতায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

সভায় প্রথমে পরিচালকদের পক্ষ থেকে রেজল্যুশনের আওতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। এরপর গভর্নর দ্রুত আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন, যাতে আমানত ফেরতসহ অন্যান্য কার্যক্রমে কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা না দেখা দেয়।

নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকের জন্য একটি একক ও সমন্বিত মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা প্রণয়নেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে পদবি, গ্রেড ও পদোন্নতি ব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে। এসব বিষয় একীভূত করে অভিন্ন পদবি কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ব্যবস্থা এবং統 একক বেতন-গ্রেড চালুর নির্দেশ দেন গভর্নর। এসব নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি নজরদারি করবে।

বৈঠকে জানানো হয়, সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যেই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকরা যেন পূর্বে ইস্যু করা চেক ব্যবহার করেই নির্বিঘ্নে টাকা তুলতে পারেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী জানুয়ারি মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে উদ্বোধনের আগেই আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন বলে সভায় আশ্বাস দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা গভর্নরের নির্দেশনার সঙ্গে একমত পোষণ করে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। এসব অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকায় একাধিক শাখা থাকলে সেগুলো এক বা দুটি শাখায় একীভূত করা হবে। পরিচালন ব্যয় কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন-ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয় হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবন নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় এবং ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা হয়।