অর্থনীতি

১২ আবেদনের মধ্যে চার ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

১২ আবেদনের মধ্যে চার ডিজিটাল ব্যাংককে এলওআই দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। দ্বিতীয় দফায় জমা পড়া ১২টি আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে চারটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

এলওআই পাওয়ার জন্য নির্বাচিত চারটি প্রতিষ্ঠান হলো-বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার। এসব প্রতিষ্ঠান এলওআইয়ের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর পরবর্তী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।

এর আগে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে দেশি-বিদেশি মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছিল। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়। আবেদনকারীদের তালিকায় বিকাশ, রবি, বাংলালিংক-স্কয়ারের পাশাপাশি ভুটানের ডিকে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) চূড়ান্ত ব্যাংকিং লাইসেন্স নয়। এটি একটি আনুষ্ঠানিক ও শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন, যার মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে এলওআই বাতিল হতে পারে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স না দেওয়ার অধিকারও রাখে।

ডিজিটাল ব্যাংকের মূল বৈশিষ্ট্য হলো শাখাভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব শাখা থাকবে না; গ্রাহকের হিসাব খোলা, লেনদেনসহ ব্যাংকিং সেবার বড় অংশই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও কোরি ডিজিটাল ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের বিষয়টি পর্যালোচনার আওতায় আসে এবং কোরি ডিজিটাল ব্যাংককে নির্ধারিত শর্ত পূরণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।

নতুন চারটি ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত লাইসেন্সে রূপ নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার পরিধি আরও বাড়বে। বিশেষ করে শাখাবিহীন ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।