অর্থনীতি

বিদেশে সম্পদ গোপন করলে আয়কর আইনে সমপরিমাণ জরিমানা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৫, ০৮:৫২ এএম

বিদেশে সম্পদ গোপন করলে আয়কর আইনে সমপরিমাণ জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে অর্জিত সম্পদ আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন এখন থেকে সব ধরনের করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক। এমনকি কেউ বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিদেশে নাগরিকত্ব নিলেও, যদি তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশী হন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে। আয়কর আইনের ২১ নম্বর ধারায় সম্প্রতি এমন সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশে গোপনে গড়ে তোলা সম্পদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত হলো।

২০২২ সালের জুলাইয়ে এ বিধান প্রথম চালু হলেও ‘নিবাসী’ শব্দের ব্যাখ্যার ফাঁকফোকর দিয়ে অনেকেই তা এড়াতে সক্ষম হন। কেউ কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্বও ছেড়ে দেন, যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ ছিল সীমিত। এই অবস্থায় ২০২৫ সালের ২ জুন ঘোষিত অর্থ অধ্যাদেশে ধারা ২১-এ বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে ‘নিবাসী বাংলাদেশী’র পরিবর্তে বলা হয়েছে ‘করদাতা বা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী ছিলেন বা আছেন’— অর্থাৎ আইনের আওতা এখন অনেক বিস্তৃত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, বিদেশে কারও সম্পদের সন্ধান পেলে তা দেশে-বিদেশে অনুসন্ধান করে যদি প্রমাণ মেলে যে রিটার্নে তা গোপন করা হয়েছে, তবে ওই সম্পদের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করা যাবে। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষের অন্য কেউ দেশের যেসব সম্পদ রাখেন, তাও বাজেয়াপ্ত করে জরিমানা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম বলেন, "নিবাসী শব্দের কারণে অনুসন্ধানে অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো। কেউ বিদেশে থাকলেও নিজেকে ‘অনিবাসী’ বলে দায় এড়াতো। তাই এখন জন্মসূত্রে বাংলাদেশী এমন ব্যক্তিকেও এই ধারার আওতায় আনা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, যারা এর আগে এই মারপ্যাঁচে পড়ে রিটার্নে সম্পদ গোপন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও এখন ২১ ধারা প্রয়োগ করা যাবে।

২০২৩ সালের ২২ জুনের সরকারি গেজেটে ‘নিবাসী’ শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল—যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এক বছরে বাংলাদেশে ১৮৩ দিন বা তার বেশি অবস্থান করেন, বা চার বছরে মোট ৩৬৫ দিনের বেশি থাকেন, তাহলেই তিনি ‘নিবাসী’। কিন্তু এখন সেটির বাইরেও, যিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশী, তাকেও ধারা ২১ অনুযায়ী করদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যদিও আইনটি চালু হয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে, তবে এতদিনে কেবল একটি অনুসন্ধানই শেষ হয়েছে। অথচ গণমাধ্যমে বহুবার প্রবাসে বাংলাদেশীদের সম্পদ অর্জনের খবর এসেছে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) কিছু দেশে গিয়ে অনুসন্ধান চালালেও বাস্তবায়ন ছিল সীমিত।

সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব জানান, "২১ ধারা প্রয়োগের এখতিয়ার কেবল সিআইসি নয়, দেশের প্রতিটি কর অঞ্চল এই ধারা প্রয়োগ করতে পারে।"

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "বিষয়টি সংবেদনশীল। আমরা বাজেটের পরই সম্পদের পরিমাণ, অনুসন্ধান এবং আদায়ের তথ্য গণমাধ্যমে জানাব।"

আয়কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, "এই বিধান কর রিটার্নে বিদেশি সম্পদ দেখানোর বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু আইনের বাস্তব প্রয়োগই আসল চ্যালেঞ্জ। যারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে আদায় করাটাই এখন বড় প্রশ্ন।"

সংশোধিত ধারা কার্যকর হবে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে। অর্থাৎ এই বিধান বাস্তবায়ন হলে বিদেশে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন রোধ এবং কর ফাঁকি রোধে বড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।