অর্থনীতি

মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটির রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। একই সময়ে বন্দরে জাহাজ আগমন, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমেও গতি বেড়েছে। ওই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে বন্দরে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউস (TEUs)।

এ ছাড়া মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড বা পুনঃনির্মিত গাড়ি আমদানি হয়েছে। জাহাজ, কার্গো, কনটেইনার ও গাড়ি আমদানির এই পরিসংখ্যান বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ, কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং কনটেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

তবে মোংলা বন্দরের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এখনো ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌচ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখার বিষয়টি সামনে রয়েছে। নিয়মিত ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জলযান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজস্ব আয়ে নতুন এই রেকর্ড এবং বন্দর ব্যবহারের বিভিন্ন সূচকে প্রবৃদ্ধি মোংলা বন্দরের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন এবং নাব্যতা সংকট মোকাবিলা করতে পারলে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।