অর্থনীতি

তেলের বাজারে আগুন, শেয়ারবাজারে ধসের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ০৫:৩৬ এএম

তেলের বাজারে আগুন, শেয়ারবাজারে ধসের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছুঁয়েছে, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলারে— বৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

তেলের এই দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। স্টক ফিউচারে ইতোমধ্যে পতনের আভাস মিলেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারের মূল্য কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধসের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের দামেও সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার মূল কারণ ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা। গত এক সপ্তাহে এই অঞ্চলে উত্তেজনা কখনো বেড়েছে, কখনো সাময়িকভাবে কমেছে— যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের দামে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তেজনা যত বাড়বে, তেলের দাম ততই বাড়বে, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকিও বাড়বে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ ইরান। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রপ্তানি রুট হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, “যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রতিদিনের তেল সরবরাহে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল ঘাটতি তৈরি হবে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেখা দিতে পারে।”

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোতে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং শেয়ারবাজারে বড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির দিকে সজাগ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। সামান্য একটি কূটনৈতিক মোড় পরিবর্তন কিংবা সামরিক সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে— তা কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।

বর্তমানে বিশ্বের অর্থনীতি যেন এক অদৃশ্য চাপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপেই নেমে আসতে পারে বৈশ্বিক আর্থিক সুনামি।