অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরও কমার সম্ভাবনা, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরও কমার সম্ভাবনা, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রতিশ্রুতিমতো বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সক্ষম হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য শুল্ক আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই দুই দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রে আমরা আলোচনা করেছি। আজ আবার বাংলাদেশে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে আমাদের অনুরোধ জানিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারলে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ আরও উন্মুক্ত হবে।

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, আলোচনায় মূলত কৃষিপণ্য, জ্বালানি পণ্য, বিমান কেনা ও এলএনজি বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমাদের আমদানি সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শুল্ক হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তুলা আমদানির ওপর নির্ভর করে পোশাক শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত তুলা মোট চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ, বাকি ৯৮ শতাংশ আমদানি করতে হয়, তাই এই প্রক্রিয়া শুল্ক হ্রাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

উপদেষ্টা জানান, বেসরকারি পর্যায়ে পণ্যের দাম বেশি থাকলেও সরকার কোনো আমদানি বাধ্যতামূলক করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি পণ্য তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়ায় বেসরকারি খাত ইতোমধ্যেই সয়াবিন ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করছে।

বাণিজ্য সচিবের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার। এ ঘাটতি হ্রাসে সফল হলে বোয়িং আমদানি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে বোয়িং আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ২০৩২ সালের আগে কার্যকর হবে না।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনার লক্ষ্য বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করে শুল্ক সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা।