শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে আসছে নতুন নীতিমালা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে আসছে নতুন নীতিমালা
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও কার্যকর পরিচালনার লক্ষ্যে ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলো সহজে বাস্তবায়নযোগ্য, তার মধ্যে অন্যতম এই নীতিমালাটি। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে।

শুক্রবার (২০ জুন) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

সভায় জানানো হয়, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনগুলো সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রশাসন, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন ও পুলিশসহ পাঁচটি কমিশনের মোট ১২১টি প্রস্তাব আশু বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রয়েছে ১৮টি প্রস্তাব।

সভায় বাছাইকৃত ১৮টি প্রস্তাবের মধ্যে আটটি তুলনামূলকভাবে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। এই আটটির মধ্যে অন্যতম হলো কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নতুন নীতিমালা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে ২ কর্মদিবসের মধ্যে এই নীতিমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করে তা ফেরত পাঠাবে, এবং শিক্ষা বিভাগ ফেরত পাওয়া খসড়া চূড়ান্ত করে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে।

এছাড়া নীতিমালা জারির এক মাসের মধ্যে দেশের সব কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুনভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

সভায় আরও যেসব সহজে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে রয়েছে—মহাসড়কে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকে ডায়নামিক করা, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা, গণশুনানি কার্যকর করা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-সেবা সম্প্রসারণ।

সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।