শিক্ষা

ভূমিকম্প ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাউশির জরুরি নির্দেশনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৫ এএম

ভূমিকম্প ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাউশির জরুরি নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দেশের সব কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জরুরি বিকল্প ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়।

মাউশি জানায়, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য ভূমিকম্পের সময় করণীয়–বর্জনীয় বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে— ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই প্রথমেই শান্ত থাকতে হবে। ভবনের ভেতরে অবস্থান করলে টেবিল বা মজবুত ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং একেবারে খোলা স্থানে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকলে বের হয়ে যেতে হবে। এসময় কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। কম্পন থেমে গেলে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ দেয়াল বা ভবনের অংশ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মাউশি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পানি, খাদ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ রাখা প্রয়োজন। কলামযুক্ত পাকা ভবনে নিচের অংশ বা কলামের গোড়ায় আশ্রয় নেয়া অধিক নিরাপদ। আর ওপর তলায় অবস্থান করলে কম্পন থামার আগ পর্যন্ত স্থির থাকতে হবে; লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করা যাবে না।

ভবন–স্থাপনার জন্য বিশেষ নির্দেশনা:  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা, সংস্কার করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা চিহ্ন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস বন্ধ রেখে অস্থায়ী ক্লাসরুম তৈরি অথবা অনলাইন ক্লাস চালু করার পরামর্শও দিয়েছে মাউশি।

উল্লেখ্য, ২১ নভেম্বর সকালে ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে শক্তিশালী ভূমিকম্পে। এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি কয়েকশ মানুষ আহত হন। পরদিন ২২ নভেম্বর সকালে এবং সন্ধ্যায় আরও তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এসব ভূমিকম্পের বেশিরভাগের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী, এর মধ্যে একটি ছিল রাজধানীর বাড্ডায়—যা ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।