শিক্ষা

ঈদের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

ঈদের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথমবারের মতো এসব পদে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

সংস্থাটি গত ২৯ জানুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এতে ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

প্রথমে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠান প্রধান পদের পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নির্ধারিত সূচি বাতিল করে ঈদের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে এক বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনে ১৫–২০ দিন এগিয়ে পরীক্ষা সম্পন্নের উদ্যোগ নিতে বলেন।

পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে— ৮০ নম্বর বহুনির্বাচনী লিখিত পরীক্ষা, ১২ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে, ৮ নম্বর মৌখিক পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা এক ঘণ্টার হবে এবং এতে ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি অংশে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান থেকেও প্রশ্ন করা হবে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে—৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদের বিপরীতে ২৬ হাজার ৮২৬ জন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৯ হাজার ৮৩৮ জন।

ডিগ্রি পাস কলেজের উপাধ্যক্ষের ৬২৭টি পদের জন্য আবেদন করেছেন ৬ হাজার ৮২ জন। উচ্চমাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষের ৫১১টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫ হাজার ৬৩০ জন। এছাড়া মাদ্রাসা ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান পদে নিয়োগ দিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।