শিক্ষা

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপ্তিকে বিয়ে করা মুশতাক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপ্তিকে বিয়ে করা মুশতাক
ছবি: সংগৃহীত

টিভি উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব। ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি তার একাডেমিক ও পেশাগত সাফল্যও নতুন করে নজর কাড়ছে।

ছাত্রজীবন থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন মুশতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্স—উভয় পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্জন করেছেন দুটি স্বর্ণপদক। এর মধ্যে একটি মাস্টার্সে সর্বোচ্চ নম্বরের জন্য এবং অন্যটি শিশুদের থ্যালাসেমিয়া নিয়ে গবেষণায় ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে প্রদান করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও নটরডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। উভয় পরীক্ষায় গড় নম্বর ছিল ৮১ শতাংশের বেশি। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মাদারীপুর জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে মাস্টার্স শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন মুশতাক। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে সেখানে পড়াশোনা করেন এবং তার গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন খ্যাতনামা অধ্যাপক স্যার ওয়াল্টার বডমার।

অক্সফোর্ডে পড়াকালীন তিনি হার্টফোর্ড কলেজের গবেষকদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রথম বাংলাদেশি। একই প্রতিষ্ঠানে পরে ডিনের সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অক্সফোর্ডে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সাফল্য উল্লেখযোগ্য। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের আয়োজিত অ্যালামনাই ইউকে অ্যাওয়ার্ডে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গবেষক নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ব্রেইন সায়েন্সেস ফাউন্ডেশনের ফেলো হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং মৌলিক আবিষ্কারের জন্য দুটি পেটেন্ট অর্জন করেছেন।

বায়োটেকনোলজি খাতে তরুণদের একত্রিত করতে ‘ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি এবং বর্তমানে এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ‘ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করে ক্যানসার সচেতনতা ও চিকিৎসা সহায়তায় কাজ করছেন।

গবেষণার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও সক্রিয় ড. মুশতাক। তিনি ২০২১ সাল থেকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে আসছেন।

এছাড়া তিনি একজন লেখক হিসেবেও পরিচিত। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘জিন প্রকৌশল ও মানব ক্লোনিং’, ‘জিন প্রকৌশল ও জিএম শস্য’ এবং ‘স্বপ্ন ও স্মৃতির অক্সফোর্ড’।