বিনোদন
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ডিপজলের জবাব: ‘মিথ্যা অপবাদ, আল্লাহই উত্তম বিচারক’
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল-অভিনেতা ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার নিজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিয়ে আলোচনায়। পৈতৃক সম্পত্তি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তার সহোদর চার বোন গণমাধ্যমে অভিযোগ করলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা অপবাদ’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান ডিপজল।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তার বোনদের করা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্ররোচনামূলক। তিনি লিখেন, “সম্প্রতি আমার কিছু বোন আমাকে নিয়ে যে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বাস্তবতা সামনে আনতে চাই। এই বক্তব্য কাউকে অসম্মান করার জন্য নয়; বরং সত্য তুলে ধরার প্রয়াস মাত্র। মামলার আইনি জবাব আমি আইন অনুযায়ী দেব, ইনশাআল্লাহ।”
স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সবসময়ই তিনি তার বোনদের সম্মান, ভালোবাসা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব বোন আজ অভিযোগ করছেন, তাদেরই একজনের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরার সামনে এসে এসব সহযোগিতার কথা বোনটি “ভুলে গেছেন” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আরেক বোনের অভিযোগের প্রসঙ্গে ডিপজল জানান, ওই বোন দাবি করেছেন ১১ বছর ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে মাত্র দুই মাস আগেই তিনি ওই বোন ও তার সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ডিপজলের ভাষ্য, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি তাদের সাধ্যের মধ্যে পাশে থাকার। এত কিছু লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।”
স্ট্যাটাসে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন-“৩৫ বছর পর হঠাৎ তারা কেন এমন অভিযোগ তুললো? কে বা কার প্ররোচনায় এসব ঘটছে?” তিনি দাবি করেন, যদি সত্যি কোনো দাবি থাকতো, সরাসরি বললেই তিনি তার সাধ্যের মধ্যে বোনদের দ্বিগুণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
তিনি আরও লিখেন, “আমি কাউকে ফিরিয়ে দিই না আল্লাহর রহমতে। আর তারা তো আমার আপন ভাইবোন।”
ডিপজল জানান, তার পর্দানশীল বোনের জন্য প্রতিটি অনুষ্ঠানে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করতেন তিনি। কিন্তু সেই বোনের মুখেই আজ অভিযোগ তোলা তাকে ব্যথিত করেছে।
মামলার বিষয়ে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আদালতেই সব সত্য প্রকাশ পাবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী যদি বোনদের সত্যিকারের মালিকানা থাকে, তবে তারা তাদের প্রাপ্য অংশ অবশ্যই পাবেন বলে নিশ্চয়তা দেন।
তার ভাষায়, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন আচরণ সত্যিই কষ্টের। যতটুকু পেরেছি করেছি, যদি আল্লাহ বেশি সময় দিতেন, হয়তো আরও করতাম। সম্মান এবং বিচার-উভয়ের মালিক আল্লাহই।”
এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ডিপজলসহ পরিবারের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চার বোন জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নানা প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভাইদের পক্ষ থেকে তাদের কোনো অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পৈতৃক সম্পত্তির অভিযোগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিষয়টি এখন ব্যাপক আলোচিত। আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কার দাবি সত্য ও আইনসিদ্ধ।