বিনোদন

মাইকেল জ্যাকসনের মতোই বিশ্বরেকর্ড, জুবিন গার্গের শেষ যাত্রায় ১৭ লাখ মানুষ


বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম

মাইকেল জ্যাকসনের মতোই বিশ্বরেকর্ড, জুবিন গার্গের শেষ যাত্রায় ১৭ লাখ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জুবিন গার্গের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর খবরে যেখানে শুরুতে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি, সেখানে তার শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল প্রমাণ করে গেল তিনি ছিলেন আসামের নিঃসন্দেহে ‘জনতার গায়ক’।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বলিউড ও আসামিয়া সংগীতের এই জনপ্রিয় মুখ। ২৩ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, গুয়াহাটিতে সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য। কিন্তু সেই বিদায়ের দৃশ্য যে এক নতুন ইতিহাস গড়বে, তা হয়তো কেউ ভাবেননি।

jubin_garge1_Dhakaprokash.jpg

জুবিনের মরদেহ ২০ সেপ্টেম্বর আসামে পৌঁছাতেই রাস্তায় নেমে আসে মানুষের ঢল। শেষবারের মতো তাকে দেখার জন্য রোববার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে। মঙ্গলবারের শেষযাত্রায় সেই সংখ্যা ছাড়ায় প্রায় ১৭ লাখ, যা ভারতের ইতিহাসে কোনো তারকার শেষকৃত্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি ‘লিমকা বুকস অফ রেকর্ডস’-এর।

এমন বিশাল জমায়েতের নজির বিশ্বজুড়ে হাতে গোনা। মাইকেল জ্যাকসন, পোপ ফ্রান্সিস, রানি এলিজাবেথ—এই তিনজনের পরেই নাম লেখালেন ভারতের জুবিন গার্গ।

jubin_garge2_Dhakaprokash.jpg

গুয়াহাটির রাস্তায় সেইদিন যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কার্যত তিনদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে গোটা আসাম। স্তব্ধ জনজীবন, চোখে জল আর কণ্ঠে প্রার্থনা এভাবেই প্রিয় শিল্পীকে বিদায় জানায় তার অনুরাগীরা।

জুবিনের জীবনে পরিবার ছিল সীমিত। স্ত্রী গারিমা ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী। তাদের কোনো সন্তান না থাকায় প্রশ্ন উঠেছিল শেষ সৎকারে মুখাগ্নি কে করবেন? সেই প্রশ্নের জবাব মেলে এক ভিডিওতে, যেখানে দেখা যায় জুবিনের ছোট বোন পামী বড়ঠাকুর নিজ হাতে মুখাগ্নি করছেন ভাইয়ের।

jubin_garge3_Dhakaprokash.jpg

স্মৃতির পাতায় জীবন্ত রাখতে, গায়ক দিগন্ত ভারতী জুবিনের পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেন। আর ভক্তরা তার কাহিলপাড়ার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে শ্রদ্ধা জানায় প্রিয় গায়ককে।

উল্লেখ্য, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার কথা ছিল জুবিনের। তবে ১৯ তারিখেই চিরতরে থেমে যায় সেই সুরের সফর। জানা গেছে, জুবিন দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় সেই সমস্যা প্রকট হয়, যার জেরে ঘটে দুর্ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।