ইতিহাস-ঐতিহ্য
গাইবান্ধার নুনিয়াগাড়িতে প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন সবচেয়ে ছোট মসজিদ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভা-এর নুনিয়াগাড়ি এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক ছোট মসজিদ দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ছোট মসজিদ’ নামে পরিচিত, তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নথিতে কাদির বকস মন্ডলের মসজিদ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাত্র ছয় ফুট। ইমামসহ একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন নামাজ পড়তে সক্ষম। প্রধান গম্বুজের চারপাশে চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটি ব্রিটিশ শাসনামলে, আনুমানিক ১৮শ শতকের শেষভাগে বা ১৯শ শতকের প্রথমভাগে নির্মিত হয়েছে বলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাথমিক ধারণা।
ভিতরে রয়েছে ক্ষুদ্রাকৃতির মিহরাব, দক্ষিণ দেয়ালে মিম্বর এবং গম্বুজের নিচে পেন্ডেটিভ। দরজা লোহার তৈরি, উপরে দৃষ্টিনন্দন নকশা এবং চুনাবালির মিশ্রণে ফুল ও লতাপাতার অলংকরণ রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গাইবান্ধার উপপরিচালক মিরাজুল ইসলাম জানান, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫,৮৪৭টি মসজিদ রয়েছে এবং এর চেয়ে ছোট কোনো মসজিদ নেই। মসজিদটির নিয়মিত নামাজ হয় না; তবে দূরদূরান্ত থেকে আগত মানুষ মাঝে মাঝে বিশেষ নিয়ত করে নামাজ পড়েন।
মসজিদটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ও পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কের মাঝে অবস্থিত। এর কাছে রয়েছে একটি বড় মসজিদ। দুই বছর আগে ছোট মসজিদটি নতুন রঙে সজ্জিত করা হয়েছে।
বড় মসজিদের ইমাম মো. নুরুননবী বলেন, বড় মসজিদেই মূলত পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ আদায় করা হয়। ছোট মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়া হয় না। একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন নামাজ পড়তে পারেন। মাঝেমধ্যে দূরদূরান্তের লোকজন এসে নিয়ত করে ছোট মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, এটি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা অধিদপ্তরের রয়েছে। বর্তমানে এটি প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের আওতায় আছে।
মসজিদটির প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে আগমন করেন এবং প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করেন।