সারাবিশ্ব

তেহরানে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, শোক র‍্যালি ঘিরে উত্তেজনা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ এএম

তেহরানে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, শোক র‍্যালি ঘিরে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র‍্যালিতে রাজধানী তেহরান-এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। শনিবার স্থানীয় ও প্রবাসী একাধিক ইরানবিষয়ক গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। ওইদিন ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

বার্তা সংস্থা এএফপি শনিবার তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হওয়া বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

বিদেশ থেকে সম্প্রচারিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রচারিত ফুটেজেও তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-তে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের ধারণা। শিয়াধর্মাবলম্বীদের শোক পালনের প্রথা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪০তম দিনে তাকে স্মরণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নিহতদের স্মরণে চলতি সপ্তাহে আবারও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার রাজধানীর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ দমন-পীড়নে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরান সরকার অবশ্য দাবি করেছে, বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতার পেছনে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ জড়িত ছিল এবং বিদেশি শক্তির উসকানিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটির মতে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের একটি ‘শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কর্মসূচির সময় ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’-এমন স্লোগান দেওয়া হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই স্লোগানটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফার্স প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় মাস্ক পরা আরেকদল বিক্ষোভকারী। স্যুট পরা কয়েকজন ব্যক্তি দুই পক্ষকে আলাদা রাখতে চেষ্টা করেন। উভয় পক্ষের হাতেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের ছবি দেখা গেছে।

এমন এক সময়ে ইরানে এই বিক্ষোভ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।

এর আগে বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব মিলিয়ে ইরানে চলমান এই অস্থিরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।