সারাবিশ্ব

কানাডা সহজ করেছে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ এএম

কানাডা সহজ করেছে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

কানাডা সরকার দেশের নাগরিকত্ব আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। নতুন আইন, যা বিল সি-৩ নামে পরিচিত, কার্যকর হলে বিদেশে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার কানাডীয় বংশোদ্ভূত পরিবার নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও নাগরিকত্ব বঞ্চনার সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব জানিয়েছেন, “বিল সি-৩ নাগরিকত্ব আইনের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করবে এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে। এই সংস্কার পুরনো আইনের কারণে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত মানুষদের নাগরিকত্ব দেবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট, আধুনিক নিয়ম তৈরি করবে।”

আইআরসিসি (ইমিগ্রেশন, রিফিউজি ও সিটিজেনশিপ কানাডা) ব্যাখ্যা করেছে, ২০০৯ সালে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট’ আইনের কারণে বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না, যদি বাবা-মা দুজনই কানাডার বাইরে জন্মগ্রহণ করতেন বা দত্তক নেওয়া হয়ে থাকতেন। তবে বাবা-মায়ের মধ্যে একজন যদি কানাডায় জন্মগ্রহণ করে থাকেন বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত থাকেন, তখন সন্তান সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্ব পেতে পারতেন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ফেডারেল সরকার আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিধিনিষেধের কারণে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত মানুষরা প্রায়শই ‘হারানো কানাডিয়ান’ নামে পরিচিত ছিলেন।

বিল সি-৩-এর মাধ্যমে সেই হারানো নাগরিকদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। নতুন নিয়মের অংশ হিসেবে ‘সাবস্ট্যানশিয়াল কানেকশন টেস্ট’ চালু করা হয়েছে, যা বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার শর্ত নির্ধারণ করে। এর অধীনে, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তান নাগরিকত্ব পাবে যদি অভিভাবক সন্তানের জন্ম বা দত্তক নেওয়ার আগে কানাডায় কমপক্ষে ১,০৯৫ দিন (৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দিতে পারে।

আইনটি কার্যকর করার জন্য আদালত ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে, যাতে আইআরসিসি প্রস্তুতি নিতে পারে। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে, প্রক্রিয়া শুরু হলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

১৯৪৬ সালের নাগরিকত্ব আইন, এবং ২০০৯ ও ২০১৫ সালের সংশোধনীতে অনেকের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা হলেও, ‘ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট’ বিদেশে জন্ম নেওয়া বংশোদ্ভূত পিতামাতার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে রেখেছিল। নতুন বিল সি-৩ সেই জটিলতার অবসান ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্যা ইকোনমিক টাইমস