সারাবিশ্ব
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: জাতিসংঘে পাকিস্তান
নিউ ইয়র্ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের দাবির তীব্র বিরোধিতা করে কড়া বক্তব্য দিয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে পাকিস্তান মিশনের কাউন্সেলর ও রাজনৈতিক সমন্বয়কারী গুল কায়সার সারওয়ানি স্পষ্ট করে বলেন, "জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।"
নিরাপত্তা পরিষদে লিডারশিপ ফর পিস শীর্ষক আলোচনায় সারওয়ানি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিতর্কিত অঞ্চল। এটি কেবল পাকিস্তানের দাবি নয়, বরং খোদ জাতিসংঘেরও অবস্থান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারত নিজেই এই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে গিয়েছিল এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে প্রায় আট দশক পার হলেও ভারত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।
বক্তব্যে সারওয়ানি অভিযোগ করেন, কাশ্মীরিদের ন্যায্য দাবি দমাতে ভারত সেখানে বিশাল সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তিনি বলেন:
"ভারত কাশ্মীরে মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে এবং বাকস্বাধীনতা হরণ করছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং দখলদার শক্তি হিসেবে ভারতের আইনি বাধ্যবাধকতার চরম লঙ্ঘন।"
ভারতের পক্ষ থেকে ওঠা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের জবাবে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভারত বিশ্ববাসীর নজর অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র-সমর্থিত হত্যা অভিযান চালানোর পাল্টা অভিযোগ আনেন।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত বা পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাকে তথ্যের বিকৃতি হিসেবে অভিহিত করেন সারওয়ানি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে ভারতের প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বথানেনি পাকিস্তানের এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চিরকাল তা-ই থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে জাতিসংঘের এই সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোতেও।