সারাবিশ্ব
বাংলাদেশি আলেমের হাতে অন্তিম মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ কোরিয়ান বৃদ্ধের
বাস্তব জীবনের কিছু গল্প অনেক সময় কল্পনাকেও হার মানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার আনসানের খুদেপিয়ংওয়ান হাসপাতালে এমনই এক আবেগঘন ঘটনার সাক্ষী হলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা কোরিয়ান নাগরিক চংওয়াং জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে বাংলাদেশি আলেম মুফতি ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন তার বাংলাদেশি স্ত্রী লাইলা। প্রায় ১৫ বছর আগে সোনারগাঁয়ের মেয়ে লাইলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন চংওয়াং। বিয়ের সময় নামমাত্র ধর্ম পরিবর্তন করলেও তিনি অভ্যস্ত ছিলেন না ইসলামি জীবনযাপনে।
কিন্তু স্বামীর কঠিন অসুস্থতার সময় লাইলার নিঃস্বার্থ সেবা ও ধৈর্য দেখে অভিভূত হন চংওয়াং। স্ত্রীর অনুরোধেই জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে তিনি নতুন করে কালিমা পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের সেই আবেগঘন মুহূর্ত কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি যুবক ইমনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান হাসপাতালে যান। সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে হাসপাতালে গিয়ে চংওয়াংকে কালিমা পড়ান তিনি। তিনি জানান, চিকিৎসকরা চংওয়াংয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সেই মৃত্যুশয্যায় শুয়েই তিনি তওবা করে ঈমানের দীক্ষা নেন। মুফতি আমান এ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৮০ জনের বেশি মানুষকে ইসলাম গ্রহণে সহায়তা করেছেন।
মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, মৃত্যু কোনো বিলয় নয়, এটি এক রূপান্তর। মানুষ বিলুপ্ত হয় না; কেবল এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হয়। যদি এই জীবনে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর হয়, তবে পরের জীবনটি আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে চংওয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক কোরীয় নাগরিকের এই রূপান্তর কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মুফতি ফয়জুল্লাহ চংওয়াংয়ের ঈমানি মৃত্যুর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।