সারাবিশ্ব

ভারতীয় পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে ইইউ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ এএম

ভারতীয় পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে ইইউ
ছবিঃ সংগৃহিত

ভারতীয় তৈরি  বস্ত্র, পোশাক, প্লাস্টিকসহ অধিকাংশ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার পণ্যেও জিএসপি স্থগিত করেছে ইইউ। এই সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। 


ইইউর অফিশিয়াল জার্নালে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি বিধিমালা জারি করে, যার মাধ্যমে ২০২৬-২৮ সময়কালের জন্য ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার পাওয়া কিছু জিএসপি স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।

এ বিষয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানায়, চলতি মাস থেকেই ইইউর বাজারে ভারতের রপ্তানিকারকেরা একটি ‘বড় ধাক্কা’ খাবেন। কারণ, জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যেই বেশি শুল্ক দিতে হবে ইইউর আমদানিকারকদের। জিএসপি সুবিধা বহাল থাকবে মাত্র ১৩ শতাংশ পণ্যে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি, চামড়াজাত পণ্য ইত্যাদি।

জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) হলো উন্নত দেশগুলো কর্তৃক উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দেওয়া একটি বাণিজ্যিক সুবিধা। এর মাধ্যমে সেসব দেশের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো শুল্ক মওকুফ বা হ্রাস করে। এতে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রপ্তানি বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।

জিএসপি সুবিধার কারণে ভারতীয় পণ্য ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি’ বা এমএফএন শুল্কের চেয়ে কম হারে শুল্ক দিয়ে ইইউতে প্রবেশ করত। এখন ভারতের ৮৭ শতাংশ রপ্তানি পণ্যেই সে সুবিধা বাতিল হয়ে গেছে। সহজ ভাষায় বলা যায়, কোনো তৈরি পোশাকে যদি সাধারণ শুল্কহার ১২ শতাংশ হয়, জিএসপির আওতায় দিতে হতো ৯ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক। তবে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

ইইউ প্রায় সব বড় শিল্প খাতের পণ্যেই ভারতের জন্য জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা ও ইস্পাত, মৌলিক ধাতু, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং পরিবহন সরঞ্জাম। এসব খাতই মূলত ইউরোপে ভারতীয় রপ্তানির ভিত্তি।

২০১৩ ও ২০২৩ সালে ইইউ জিএসপি সুবিধা কিছুটা কমায়। এবার ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে।

জিটিআরআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ইইউর সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও জিএসপি স্থগিত হওয়ায় দেশটির রপ্তানিকারকেরা সংকটে পড়বেন

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের স্বল্প মেয়াদে বড় বাণিজ্যিক বাধার মুখে পড়তে হবে। কারণ, জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের সময়ই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজমের (সিবিএএম) করপর্ব শুরু হচ্ছে।’

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, ইইউ ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ রপ্তানি পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে; যে কারণে অধিকাংশ পণ্যকে এখন পূর্ণ এমএফএন শুল্কে ইইউতে প্রবেশ করতে হবে। আগে গড়ে যে ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাওয়া যেত, তা এখন আর থাকছে না। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে। কারণ, দেশ দুটির পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত সুবিধায় বা কম শুল্কে রপ্তানি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ৭৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানির পরিমাণ ৬০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ যায় ইইউর বাজারে। আর ইইউর মোট রপ্তানির ৯ শতাংশের গন্তব্য হচ্ছে ভারত।