সারাবিশ্ব
তীব্র দাবদাহে ফ্রান্সে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২১ জুন থেকে এ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্রান্সেই প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২৪ জুন শুরু হওয়া তাপপ্রবাহের পর থেকে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়িতে মৃত্যুর ঘটনাও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট বলেন, অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও দাবদাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো কাটেনি। তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালগুলো এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে এবং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, প্যারিসের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা (সামু) জানিয়েছে, শনিবার তারা ৮০টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৩০ জন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে এই তথ্য শুধু সামুর আওতায় আসা মৃত্যুর ঘটনা; রাজধানীতে মোট মৃত্যুর পূর্ণ চিত্র এতে প্রতিফলিত হয়নি।
টানা ১১ দিনের তাপপ্রবাহের পর রবিবার কয়েকটি এলাকায় বজ্রঝড়ের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। কেরাউনোস আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে সারা দেশে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবুও প্যারিসসহ আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের মোট ২২টি বিভাগে কমলা সতর্কতা বহাল রেখেছে ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বয়স্ক ও একাকী মানুষদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই তাপপ্রবাহের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো সামনে আসেনি।