সারাবিশ্ব

আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের
ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পিটিআইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জন্য নয়; বরং কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজাদ কাশ্মীরে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

বর্তমানে পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে পিটিআই। দলটি দাবি করেছে, আজাদ কাশ্মীর গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সহিংস বিক্ষোভের অভিযোগে আজাদ কাশ্মীর সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর কয়েক দিন পর, ৯ জুন সংগঠনটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানে চলে আসা ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা।

পিটিআই আরও অভিযোগ করেছে, পাঞ্জাব থেকে আজাদ কাশ্মীরে খাদ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার এবং আজাদ কাশ্মীর পুলিশের প্রধান এর আগে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দলটি কাশ্মীরের চলমান সংকট দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থীদের মনোনয়ন (টিকিট) দেওয়ার সব কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।