সারাবিশ্ব
খামেনির জানাজায় কোটি মানুষের ঢল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব: পেজেশকিয়ান
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণকে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, এই উপস্থিতি শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানিদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ দেশের জনগণের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই বিশাল উপস্থিতি সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় জবাব। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববাসীর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যে, ইরানের জনগণ তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ এবং অবিচল।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর চার মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের আয়োজন করেছে ইরান। দেশটির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকেরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে জানাজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর সোমবার তেহরানের রাজপথে শোকমিছিল বের হবে, যা ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম হয়ে ইরাকের নজফ ও কারবালা পর্যন্ত যাবে।
আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। এ উপলক্ষে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরো কর্মসূচিতে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি অতিথি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।