সারাবিশ্ব

ব্রাজিলের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন 


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম

ব্রাজিলের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন 
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এই নতুন শুল্ক আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ব্রাজিলের ‘অন্যায্য আচরণ’ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বছরের তদন্ত শেষে ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে কফি ও গরুর মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে রেখে ব্রাজিলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এ ধরনের একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের দাবি, এ তদন্তের পক্ষে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালায় কোনো ভিত্তি নেই।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘দুঃখজনক মাইলফলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কেন এই শুল্ক?

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ব্রাজিল মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যায্য বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির উৎপাদকরা ব্যয়গত সুবিধা পাচ্ছেন।

এ ছাড়া ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হলো—

১.মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করা।
২. মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া।
৩. কিছু দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক বিরোধের ফল নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরও প্রতিফলন।

এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো-এর প্রতি ব্রাজিল সরকারের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির ওপর পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় ব্রাজিলের কর্মকর্তারা আরও গঠনমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ পরিস্থিতির জন্য লুলা সরকারকেই দায়ী করে বলেন, লুলার অর্থনৈতিক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্রাজিলের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর হয়েছে।

তবে মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।