সারাবিশ্ব

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ’দের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ’দের
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতজুড়ে চলা আন্দোলন স্থগিতের পর বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহার না করা হলে মঙ্গলবার থেকেই তারা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামবে।

অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি একসময় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ ৩৭ দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে সরকারের সম্মতির প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে তাদের অভিযোগ, সমঝোতার পরই সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ইতোমধ্যে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের নজরদারিতে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলনে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদেরও আটকের অভিযোগ করেন তিনি।

রাঙ্কা সরকারের কাছে তিনটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন—আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং নতুন কোনো মামলা না করা। পাশাপাশি সমঝোতা বৈঠকে প্রতিশ্রুত লিখিত চুক্তিপত্র দ্রুত হস্তান্তরেরও দাবি জানান তিনি। অন্যথায় নতুন করে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দেন।

এর আগে শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছিল, আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সে সময় সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি পেশ করে এবং চার সপ্তাহ পর পরবর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী আটক হন এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার এবং কেবল আন্দোলন হচ্ছে—এই কারণে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ সমর্থনযোগ্য নয়। একই দিনে লোকসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন, যার ফলে অধিবেশন বারবার ব্যাহত হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় সরকার পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন বিলও লোকসভায় উত্থাপন করে।

সূত্র: এনডিটিভি