সারাবিশ্ব
লাদাখ বিক্ষোভের নেতা ‘থ্রি ইডিয়টসের র্যাঞ্চো’ খ্যাত সোনম ওয়াংচুক গ্রেপ্তার
লাদাখে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের লাদাখ পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে লেহ শহরে তার নির্ধারিত এক সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তেই তাকে আটক করা হয়।
তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনসাধারণকে সহিংসতায় প্ররোচিত করেছেন এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন এনএসএ-তে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক, যিনি ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার র্যাঞ্চো চরিত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত, গত ছয় বছর ধরে লাদাখবাসীর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে লাদাখকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি, পৃথক লোকসভা আসন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো দাবিতে সোচ্চার।

চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে তিনি অনশন শুরু করেন। শুরু থেকেই আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রাখার কথা বলে আসছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার লেহ শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল সহিংসতায় রূপ নেয়। সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও আশি জনের বেশি। এই ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনের পেছনে ওয়াংচুকের ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যকে দায়ী করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুক এই সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “লাদাখের জন্য এবং আমার নিজের জন্যও এটি সবচেয়ে দুঃখজনক দিন। এতদিন আমরা অহিংসার পথে হেঁটেছি। আজকের এই সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ আমাদের শান্তিপূর্ণ বার্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।”
তাকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুতই গোটা লাদাখ অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গুজব ছড়ানো ও জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওয়াংচুককে লাদাখের বাইরে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তার আগের দিনই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াংচুক পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ’ সেকমল-এর বিদেশি অনুদান গ্রহণের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়। অভিযোগ, সংস্থাটি বিদেশি অনুদান গ্রহণে আইন লঙ্ঘন করেছে। ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে।
তবে সোনম ওয়াংচুক এই অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার সংস্থা কখনও বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেনি, বরং জাতিসংঘ, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন করেছে এবং সেই অনুযায়ী করও পরিশোধ করা হয়েছে।
লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, একজন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে সরকার নিজেদের দমনমূলক নীতি সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন এখন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে লেহ ও কারগিলে।