সারাবিশ্ব

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের অবজ্ঞা: জাতিসংঘ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের অবজ্ঞা: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উচ্চ কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা কিংবা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অন্য কোনো দেশের হুমকি বা বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতি হলো—একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি দিতে বা শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না।” ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযান এই নীতির সরাসরি অবজ্ঞা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়া আসে নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকের পর। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে ফ্রান্স সবচেয়ে স্পষ্ট ও জোরালো আপত্তি তোলে।

জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি জঁ-ধর্মাধিকারী বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করা ‘বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ নীতি’ এবং ‘বলপ্রয়োগ না করার আন্তর্জাতিক নীতির’ পরিপন্থি। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেও সতর্ক করেন।

এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানায়।

এর আগে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক সদস্য রাষ্ট্র তীব্র নিন্দা জানায়। তারা একে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: বিবিসি