সারাবিশ্ব
আন্দোলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি ফিরলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিতব্য আন্দোলনকে ঘিরে সকালেই দিল্লিতে পৌঁছান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশে রওনা হন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তিনি যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।
দিল্লিতে পৌঁছে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ ও ভালোবাসাভিত্তিক আন্দোলনের পক্ষে সবাইকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে আন্দোলনের সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের সকাল থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির ডিজিটাল শাখার মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হতে পারে।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন তাদের কাছে জমা পড়েনি। তারপরও সম্ভাব্য সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আয়োজকদের ভাষ্য, বিক্ষোভে এই দাবিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
সংগঠনটির দাবি, প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে ত্রুটি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ককরোচ জনতা পার্টি অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণদের একটি আলোচিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যদিও এটি এখনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
অন্যদিকে, সংগঠনটির ওয়েবসাইট চালুর কয়েক দিনের মাথায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ দীপকে। তার ভাষ্য, তরুণদের একটি আন্দোলনকে ঘিরে এত উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণ কী, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।