আইন আদালত

হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দিলেন খোকন চন্দ্র


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দিলেন খোকন চন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া খোকন চন্দ্র বর্মণ।

রবিবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী থানার সামনে সংগঠিত হত্যাযজ্ঞের বিবরণ তুলে ধরেন।

খোকন চন্দ্র আদালতে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের গুলিতে আমার বাম চোখ, নাক ও মুখ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। আমার চোখের সামনেই হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংস নির্যাতনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (যাকে আমি ‘কাউয়া কাদের’ বলি), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাংসদ শামীম ওসমান ও সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়ী করি।”

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় প্রসিকিউশন খোকনের কাছে জানতে চায়—তিনি ‘কাউয়া কাদের’ বলে কাকে বোঝাচ্ছেন। উত্তরে তিনি একাধিকবার জোর দিয়ে বলেন, “আমি ওবায়দুল কাদেরকেই বোঝাচ্ছি।” এ সময় আদালতে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখযোগ্য, ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। ওইদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার অন্যতম আসামি ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সত্য। আমি দায় স্বীকার করছি এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতকে সহযোগিতা করতে চাই।”

এই মামলায় প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪০০ জন ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ড, হত্যা প্ররোচনা, নির্দেশনা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে। মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত হচ্ছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধের বিচার ঘিরে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো একজন সরাসরি ভুক্তভোগী ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন, যা বিচারিক কার্যক্রমে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।