আইন আদালত

আদালতে রিয়াদের ক্ষোভ-‘কুত্তার মতো পেটায়, এজন্য কি যুদ্ধ করেছিলাম’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৮ এএম

আদালতে রিয়াদের ক্ষোভ-‘কুত্তার মতো পেটায়, এজন্য কি যুদ্ধ করেছিলাম’
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ চারজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

রিমান্ড আদেশের পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে রিয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি অপরাধ করে থাকি, বাদীদের আমার সামনে হাজির করা হোক। তারা বলুক আমি টাকা চেয়েছি। আন্দোলনের পর আমার পরিবার কি বাড়ি করতে পারে নাই? আমাদের কুত্তার মতো পেটায়, নিচে ফেলে মারধর করে। এ দেশের জন্য যুদ্ধ করা কি আমাদের অপরাধ ছিল? আদালতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।”

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার ইন্সপেক্টর নাজমুল জান্নাত শাহ রিয়াদসহ চারজনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে রিয়াদের আইনজীবী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া এবং অপর এক আসামির পক্ষে আব্দুল্লাহ আল ফারুক রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন সাংবাদিকদের বলেন, “৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে নতুন এক শ্রেণির চাঁদাবাজ তৈরি হয়েছে। আইনের কাছে সবাই সমান। আনিসুল হক, জুনাইদ পলকের মতো অনেকেই আইনের মুখোমুখি হয়েছেন, চাঁদাবাজদেরও বিচারের আওতায় আসতে হবে।”

এ মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ জুন বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে রিয়াদসহ অন্যান্য আসামি এমপি আবুল কালাম আজাদের অফিসে গিয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। অস্বীকৃতি জানালে তাকে শেখ হাসিনার দোসর আখ্যা দিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো এবং গণমব সৃষ্টি করে বেইজ্জত করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অফিসের ড্রয়ার থেকে ১১টি চেক বের করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরপর রিয়াদ তাকে ফোন করে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বলেন, নইলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

গত ১ আগস্ট এই ঘটনায় এমপি আবুল কালাম আজাদের শ্যালক সাইফুল ইসলাম তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে গুলশানে এক সাবেক এমপির বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায়ও রিয়াদ ও অন্যান্য আসামিরা কারাগারে ছিলেন।