আইন আদালত

বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ১২ জনের জামিন বাতিল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম

বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ১২ জনের জামিন বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১২ জন আসামির জামিন বাতিল করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, গত ২৭ অক্টোবর বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালত ১২ আসামিকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ নভেম্বর তাঁদের জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়ে মহানগর দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করে। আজ (বৃহস্পতিবার) সেই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে আসামিদের জামিন বাতিলের আদেশ দেন।

জামিন বাতিল হওয়া আসামিরা হলেন—আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মঈনুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল হান্নান, আশিক আহমেদ, গাজী মো. সালাহউদ্দিন, হাফিজুর রহমান, খালিদ ইসলাম, মো. মাহতাবুল আমিন, সোহেল শরীফ, তাজিন আলম, নাদির শাহ কোরেশী, মীর নাসির হোসেন এবং সিসিও মুসফিক মনজুর।

এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির পক্ষে সংস্থাটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম গুলশান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) গঠনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে। নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য আদায় করা “মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড” থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আইওএফ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমান এফ রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক কল পরিচালনায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) খাত কুক্ষিগত করে রাখে। তাঁর নির্দেশে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হতো তাঁর মালিকানাধীন বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডে, যদিও প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নেই।

এছাড়া, মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের নামে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও এর প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এমনকি সংশ্লিষ্ট অপারেটররাও। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এটি ছিল সংগঠিত আর্থিক প্রতারণা ও দুর্নীতির একটি বড় উদাহরণ, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।