আইন আদালত

শেখ হাসিনা-কামালের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের দেয়ার নির্দেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম

শেখ হাসিনা-কামালের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের দেয়ার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই দুই আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরের পর ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় ঘোষণা কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরে ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের অংশবিশেষ আদালতে পাঠ করেন তিনি।

মামলায় অভিযোগ তোলা হয় যে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাগুলোর নেপথ্যে “মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার” হিসেবে কাজ করেছেন শেখ হাসিনা। পাঁচটি পৃথক অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ছিল গণভবনে উসকানিমূলক ভাষণ প্রদান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার ও ড্রোনসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ভূমিকা।

চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা– সংক্রান্ত অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল উভয়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুইজনের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা শহীদ পরিবারের কল্যাণে ব্যবহারের নির্দেশনা দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উল্লেখ করা হয় যে সাক্ষ্য, ফাঁস হওয়া ভিডিওচিত্র এবং আন্দোলন দমনে সংঘটিত টেলিফোনালাপের নানা রেকর্ড আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষে–বিপক্ষে যুক্তিতর্ক পাঠ করে শোনানোর সময় শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন তথ্যও আদালত বিবেচনায় নিয়েছে।

মামলার আরেক আসামি, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়, তবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় অনুপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থাপিত অডিও–ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শী বক্তব্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন এলাকা- যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া ও রংপুরসহ- বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনার চিত্রও আদালতের সামনে তুলে ধরে। অভিযুক্তদের সঙ্গে তৎকালীন বিভিন্ন ব্যক্তির টেলিফোন কথোপকথনের বর্ণনাও রায়ে স্থান পায়।