আইন আদালত
প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্লট দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করেন। এই তিন মামলায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারসহ মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
আদালতের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে এসেছে, রাজধানীতে জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে সরকারি প্লট নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।
দুদক অভিযোগ করেছে, রাজউকের ৩০ কাঠা সরকারি প্লট অবৈধভাবে নেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবল প্রয়োগ করা হয়েছে এবং মিথ্যা হলফনামা দাখিল করা হয়েছে। আদালতে আসামিদের উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা উপস্থিত হননি। পলাতক অবস্থায় ২৩ জনের বিচার চলেছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
শেখ পরিবার ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে ছিলেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মো. সালাহ উদ্দিন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং রাজউকের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা। কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য মো. খুরশীদ আলম রায় ঘোষণার সময় হাজির ছিলেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এর পর দুদক রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত ছয়টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আসামি ছিলেন।
মামলার শুনানি শেষে ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনার পরিবারের মামলার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়। অন্যদিকে, শেখ রেহানার পরিবারের মামলার রায় ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।